পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় একটি মানববন্ধন চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় টিপু বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তির গুলিতে ইকরাম মোল্লা (৫০) নামের একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আজ রোববার (৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ ইকরাম মোল্লা আটঘরিয়া উপজেলার কদিম বাগদিপাড়া গ্রামের জবির মোল্লার ছেলে। অন্যদিকে অভিযুক্ত গুলিবর্ষণকারী টিপু বিশ্বাস (৪২) একই উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের গুরুবাসি গ্রামের আহেদ বিশ্বাসের ছেলে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি শিবপুর ত্বহা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক শামসুল আলম মঞ্জু ও একই প্রতিষ্ঠানের প্রভাষক আফরোজা খাতুনের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। এর জেরে গত ৩ আগস্ট তাঁদের অপসারণের দাবিতে মাদ্রাসার সামনে মানববন্ধন করে স্থানীয় একটি পক্ষ। তবে ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে আজ রোববার সকালে পাল্টা মানববন্ধনের আয়োজন করে অন্য একটি পক্ষ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে দাঁড়ালে টিপু বিশ্বাস ও তাঁর সহযোগীরা সেখানে গিয়ে বাধা দেন এবং ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় উপস্থিত লোকজন তাঁদের প্রতিহত করতে চাইলে টিপু বিশ্বাস কোমর থেকে পিস্তল বের করে প্রথমে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। এরপর তাঁকে বাধা দিতে গেলে ইকরাম মোল্লাকে সরাসরি পেটে গুলি করেন। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া দিলে টিপু ও তাঁর সহযোগীরা পালিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই গুলিবিদ্ধ ইকরাম মোল্লাকে দ্রুত উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয় লোকজন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় আটঘরিয়া ও আতাইকুলা থানা-পুলিশ। পরে পরিস্থিতি শান্ত হলে দুই শিক্ষকের পক্ষের লোকজন ও স্বজনেরা তাঁদের মানববন্ধন সম্পন্ন করেন।
এ বিষয়ে আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় কেউ এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
